অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

বাঙালি সাহিত্যের ইতিহাসকার

অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (৩রা জুন, ১৯২০ – ২১শে মার্চ, ২০০৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার, বিশিষ্ট অধ্যাপক, গবেষক ও পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির ভূতপূর্ব সভাপতি। নয় খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের কারণে তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন । তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কথা শ্রেষ্ঠ সূক্ত , জীবন কাহা কাগর জীবন , সত্যেন্দ্র রচনাবলী , বিদ্যাসাগর রচনাবলী , সঞ্জীব রচনাবলী উল্লেখযোগ্য।

  • পশু ও মানুষের মধ্যে একটা বড়োরকমের পার্থক্য হচ্ছে মন। পশু যখন তৃণভূমিতে বিচরণ করে, আমমাংসের লোভে শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, অতিভোজনে নিদ্রা যায়, কিংবা প্রজননক্রিয়ার দুর্নিবার আকর্ষণে সঙ্গিনীকে আয়ত্তের মধ্যে আনে, তখন সে নিতান্তই আহার-নিদ্রা-ভয়-মৈথুন প্রভৃতি স্কুল শারীরবৃত্তির দ্বারাই চালিত হয়। কিন্তু মানুষ তদতিরিক্ত প্রয়োজনের বশে অরণ্য ছেড়ে গুহাভ্যন্তরে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে, আমমাংসের বদলে অগ্নিপক মাংসে তার রুচি বাড়ে, স্কুল দেহবাসনা একপ্রকার নির্দেহী আবেগ, আনন্দ ও বেদনার জ্যোতির্ময় ঊর্ধ্বায়ন লাভ করে, যাকে বলা যাবে প্রেম। আসলে মানুষ মনোজীবী, পশুরা দেহজীবী।
    • অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালির ধর্ম ও দর্শনচিন্তা, পৃষ্ঠা ১
  • সাহিত্য একান্তরূপে মানস-প্রক্রিয়ার বাঙ্ময় রূপ হইলেও বস্তুগ্রাহ্য জীবন- ধারার সহিত তাহার অন্তগূঢ় যোগাযোগ রহিয়াছে। আত্মার রূপলাডের জন্ম। যেমন দেহ-আধারের প্রয়োজন, ঠিক তেমনই সাহিত্যেরও একটা বাস্তব আধার চাই। জাতির ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতিকে অবলম্বন করিয়া সেই আধার গড়িয়া ওঠে। দেশ, কাল ও পাত্রের সহযোগিতায় অনন্ত কালপ্রবাহের কিয়- দংশকে খণ্ডিত করিয়া রচিত হয় জাতির কালিক ইতিহাস, আর নরগোষ্ঠীর অদ্ভুত চিত্তপ্রবাহের কয়েকটি তরঙ্গভঙ্গ সৃষ্টি করে সাহিত্য, শিল্পকলা, অধি- মানসের বিচিত্র বিস্ময়।
    • অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত-খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩
  • সাহিত্যের ইতিহাস আলোচনা প্রসঙ্গে বঙ্গভাষাভাষী অঞ্চলকে এক ও অখও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মধ্যে স্থাপন করা কর্তব্য।
    • অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১২
  • বৃদ্ধ পিতামহ মোর দেব উদ্ধারণ।
    রাঢ়দেশ ছাড়িয়া সে আসিল আপন।
    • অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২০

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা