অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী

বাঙালি লেখক

অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী (১৮৬৭ – ১৯৪৬) একজন বাঙালি বৈষ্ণব গবেষক ও লেখক। অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী ব্রিটিশ ভারতে, কলকাতার সিমুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মহেন্দ্রনাথ গোস্বামী। সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেন তিনি। বৈষ্ণব গ্রন্থ গবেষণার উপযোগী করে সম্পাদনাকাজে তিনি পারদর্শী ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থগুলি হল ভক্তের জয়, তুলসীমঞ্জরী, শ্রীশ্রীচৈতন্যাষ্টক ইত্যাদি। বৈষ্ণবধর্ম সম্পর্কিত তার গবেষনা ও তার রচিত বা সম্পাদিত বৈষ্ণব গ্রন্থসমূহ অধুনাকালেও গবেষকদের নিকট গৃহীত হয়। তার গ্রন্থসমূহ এবং মৌলিক গবেষনা বৈষ্ণব ধর্মের জানা অজানা নানান দিকে বিশেষ আলোকপাত করেছে।

  • জয় দিই কার? ভক্ত না ভগবানের? ইহার উত্তরের জন্য বড় একটা ভাবিতে ভয় না। স্বয়ং ভগবানই তো শ্রীমুখে বলিয়াছেন 'মন্তক্তপুজাভ্যবিকা।
  • ভক্তচরিত্রের ছত্রেছত্রে ভক্তের অপ্রতিহত প্রভাব প্রকাশিত। ভগবানেরও ভক্ত-প্রীতির পুত-প্রবাহ প্রবাহিত। আর সেই ভক্তচরিত্র লইয়াই ভক্তের জয় দিগ্দিগন্তে প্রচারিত।
  • আমাদের দেশে তেমন ধারাবাহিক ইতিহাস নাই,অলস আমাদেরও তেমন অনুসন্ধান-সামর্থ্য নাই। তাই সকল চরিত্রগুলির কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রদর্শন করিবারও উপায় নাই। কিন্ত, বলিতে কি, আমি যতই অনুসন্ধান করিতেছি, ততই এই সকল চরিত্রের কিছু না কিছু প্রত্যক্ষ প্রমাণ সংগ্রহ করিতে সমর্থ হইতেছি।
  • বিশ্বসংসারের সকল সামগ্রীই, পশু-পক্ষী, কীট-পতঙ্গ সকল প্রাণীই, সুর-অসুর, দিকপালাদি বারংবার যাতায়াত করিতে থাকে, কেবল একমাত্র পরব্রহ্ম জগন্নাথই নিত্য সত্য; তাহার যাওয়াও নাই, আবার আসাও নাই।
  • অনুও তিনি বৃহৎও তিনি, সগুণও তিনি, নির্গু‌ণও তিনি, সুক্ষও তিনি, স্থুলও তিনি।
  • যত দিন দেহ সবল, ততদিনই এই দেহ সকলের বন্ধু হইয়া থাকে। বয়স শেষ হইয়া আসিলে এই দেহই আবার স্ত্রী-পুত্রেরও বিষ বলিয়া বোধ হয়। অহো! এই দেহই যখন আপনার নহে, তখন আর অন্য কে -ই বা কাহার?
  • কল্পবৃক্ষের কাছে যে যাহা চায়, সে তাহাই পাইয়া থাকে। পরমাত্মা শ্রীহরিও বাঞ্ছাকল্পতরু। তাহার কাছেও যে যাহা চায় সে তাহাই লাভ করে। যে সকল লোক পরব্রহ্ম শ্রীহরিকে দর্শন করিয়া পুনরায় গৃহে ফিরিয়া যাইতে চাহে, তিনি সেই সকল লোককে আটকাইয়া রাখেন না; গৃহেই ফিরাইয়া দেন। যে গৃহে ফিরিয়া যাইতে চায়, তাহাকে আটকাইয়া রাখিলে তিনি আর 'বাঞ্ছানিধি' বলাইবেন কি প্রকারে? আবার যদি কেহ তাহার কাছে দৃঢ়চিত্তে মুক্তিরই প্রার্থনা করে, তিনি তাহাকে মুক্তিই প্রদান করিয়া থাকেন; তাহাকে আর ঘরে ফিরাইয়া দেন না।
  • জয় ভক্তের জয়। জয় ভক্তবৎসল ভগবানের জয়। ভক্ত তুমি ধন্য। কেননা তুমি ভগবানকে আপন অধীন করিতে পার। আর ভগবান্‌ তুমিও ধন্য। কেন না, তুমিও জাতি-কুল-বিদ্যা-সম্পদ প্রভৃতির অপেক্ষা না করিয়া ভক্ত মাত্রকেই আত্মসাৎ করিয়া থাকো।
  • এই সংসার মধ্যে ভগবানের ভক্তই বড়। ভক্তকে কেহ কখনও ছোট বলিয়া মনে করিও না। ভক্ত-ভগবানের অভিন্ন তনু; ভক্ত দ্বিতীর ভগবান। ভগবন্‌! তোমার ভক্তের জয় হউক-জয় হউক।

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা